Personal Growth

কীভাবে স্মার্টলি ডিসিশন মেক করতে হয়?

কীভাবে স্মার্টলি ডিসিশন মেক করতে হয়?

আপনি কি জানেন, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলো আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না?

যেখানে আসলে একটা বড় বাঁক ছিল, তখন সেটাকে মনে হয়েছিল সাধারণ একটা রাস্তা। আর যেটাকে গন্তব্য ভেবেছিলাম, পরে বুঝেছি সেটাই ছিল নতুন একটা শুরুর জায়গা।

তারপরও প্রতিদিন আমাদের অসংখ্য ডিসিশন নিতে হয়।

চা খাব কি না, কোথায় টাকা খরচ করব - এসব ছোট সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে কোন জব করব, কোন স্কিল শিখব, কার সাথে রিলেশন রাখব কিংবা কোন সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসব - প্রতিটা সিদ্ধান্তই কোনো না কোনোভাবে আমাদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই স্মার্টলি ডিসিশন নিই?

নাকি কখনো রাগ, ভয়, আবেগ কিংবা অন্য মানুষের কথায় প্রভাবিত হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, যার ফল পরে আমাদেরই ভোগ করতে হয়?

ভুল ডিসিশনের ক্ষতি শুধু টাকা-পয়সায় হয় না। কখনো নিজের মানসিক শান্তি হারাতে হয়, কখনো একটা ভালো সম্পর্ক নষ্ট হয়, আবার কখনো এমন একটা সুযোগ হারিয়ে যায়, যেটা দ্বিতীয়বার আর আসে না।

তাহলে কীভাবে একটু স্মার্টলি ডিসিশন নেওয়া যায়?

১. ডিসিশন নেওয়ার আগে নিজেকে একটু থামান।

রাগের সময়, প্রচণ্ড কষ্টের সময় কিংবা অতিরিক্ত উত্তেজনার মধ্যে নেওয়া ডিসিশন অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়।

তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন - "আমি কি এখন শান্ত মাথায় সিদ্ধান্তটা নিচ্ছি?"

যে সিদ্ধান্তটা আজ রাতে খুব জরুরি মনে হচ্ছে, সেটা যদি কাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে, তাহলে অপেক্ষা করুন।

কিছু সিদ্ধান্ত একটু দেরিতে নেওয়া যায়। কিন্তু কিছু ভুলের ফল অনেকদিন বয়ে বেড়াতে হয়।

২. কী পাবেন আর কী হারাবেন, লিখে ফেলুন।

একটা কাগজ নিন। দুইটা কলাম করুন।

আমি যদি এটা করি, কী হতে পারে?
আমি যদি এটা না করি, কী হতে পারে?

মাথার ভেতর একই চিন্তা বারবার ঘুরতে থাকলে অনেক কিছুই জটিল মনে হয়। কিন্তু কাগজে লিখে ফেললে বিষয়টা অনেক পরিষ্কার হয়ে আসে।

কারণ তখন আপনি শুধু কী চান সেটা দেখছেন না, কী হারাতে পারেন সেটাও দেখতে পাচ্ছেন।

৩. শুধু অনুভূতির ওপর সিদ্ধান্ত নেবেন না। তথ্য দেখুন।

আপনার ইচ্ছা আপনাকে একটা সিদ্ধান্তের দিকে নিতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কাজ করবে কি না, সেটা বুঝতে হলে তথ্য দরকার।

আপনি যে কাজটা করতে যাচ্ছেন, সেটা আগে কেউ করেছে কি না দেখুন। করলে তার ফলাফল কী হয়েছে দেখুন। সুবিধা, অসুবিধা, খরচ, ঝুঁকি - যতটা সম্ভব বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করুন।

তারপর নিজের অনুভূতিটাকে সেই তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখুন।

কারণ অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু অনুভূতি দিয়ে জীবন চালানো যায় না।

৪. ১০-১০-১০ কৌশল ব্যবহার করুন।

কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় থাকলে নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ১০ মিনিট পর কী হবে?

১০ মাস পর কী হবে?

আর ১০ বছর পর কী হতে পারে?

১০ মিনিটের আবেগ অনেক সময় ১০ মাস বা ১০ বছর পর কোনো গুরুত্বই রাখে না।

এই প্রশ্নগুলো আপনাকে বর্তমানের আবেগ থেকে একটু দূরে গিয়ে সিদ্ধান্তটার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেখতে সাহায্য করবে।

৫. আপনার জায়গায় আপনার প্রিয় একজন মানুষ থাকলে তাকে কী পরামর্শ দিতেন?

ধরুন, একই পরিস্থিতিতে আপনার সবচেয়ে কাছের একজন মানুষ পড়েছে।

আপনি তাকে কী বলতেন?

অদ্ভুতভাবে দেখবেন, নিজের ক্ষেত্রে যে বিষয়টা নিয়ে আপনি কনফিউজড, অন্য একজনের ক্ষেত্রে সেটার উত্তর আপনি অনেক সহজেই দিতে পারছেন।

কারণ নিজের ব্যাপারে আমরা অনেক সময় আবেগ দিয়ে দেখি। অন্যের ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে বাস্তবভাবে চিন্তা করতে পারি।

তাই নিজের সিদ্ধান্তকে মাঝে মাঝে বাইরে থেকে দেখার চেষ্টা করুন।

আর একটা বিষয় মাথায় রাখবেন।

স্মার্ট ডিসিশন মানে জীবনে কখনো ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়া না।

আপনি যতই হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেন, তারপরও ভুল হতে পারে।

স্মার্ট মানুষ আর অন্যদের মধ্যে পার্থক্য হলো, ভুল বুঝতে পারার পর সে নিজের ভুলকে জাস্টিফাই করে পড়ে থাকে না। সে ভুলটা স্বীকার করে, সেখান থেকে শেখে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত দিক পরিবর্তন করে।

জীবন শুধু Trial & Error না। এটা Trial & Learn।

আপনি ভুল করবেন। শিখবেন। আবার চেষ্টা করবেন। তারপর আগের চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।

তাই স্মার্ট ডিসিশন মেকিংয়ের মূল কথা হলো - নিজেকে বোঝা, তথ্য দেখা, আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, ভবিষ্যতের প্রভাব চিন্তা করা এবং প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস রাখা।

আর একটা কথা মনে রাখবেন।

আপনি যদি প্রতিটা সিদ্ধান্ত পারফেক্ট হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন, তাহলে একসময় সময়ই আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে।

তাই সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা করবেন না। যতটা সম্ভব বুঝুন, হিসাব করুন, ঝুঁকি বুঝুন এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

কারণ আপনার জীবনের একটা সঠিক সিদ্ধান্তই হয়তো আপনার জীবনের পরবর্তী কয়েক বছর বদলে দিতে পারে।

শুভকামনা।

Share This Post

Related Blog

No blogs available